০৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

রাঙামাটির ফুরমোন পাহাড়ে পর্যটক হেনস্থার প্রতিবাদে পিসিসিপির বিক্ষোভ

রাঙামাটির ফুরমোন পাহাড়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে পর্যটকদের মোবাইল ছিনতাই, হেনস্থা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। এ ঘটনার প্রতিবাদে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার  (২ জানুয়ারি) রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জুমার নামাজ শেষে কাঠালতলী মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরূপা চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন। এতে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য, পর্যটন বিষয়ক আহ্বায়ক মো. হাবীব আজম, পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোলায়মান, সহ-সভাপতি কাজী জালোয়া, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. নূর হোসেন, রাঙামাটি অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, রাঙামাটি ফার্নিচার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শুক্কুর, হিল সার্ভিস রাঙামাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাসুদ রানা, অ্যাসোসিয়েশন অব হিল ট্যুরিস্ট গাইডস রাঙামাটির সভাপতি সোহেল রানা, রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নেতা রাকিব, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিয়ান রিয়াজ, মো. রনি, পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবুসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, “মেঘ ছোঁয়ার নেশায় ফুরমোন পাহাড়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ইউপিডিএফের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হাতে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণ ও শারীরিক নিগ্রহের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে রাঙামাটির সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।”

তারা অভিযোগ করেন, ফুরমোন পাহাড়কে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। পাহাড়ে ঘুরতে আসা সাধারণ পর্যটকদের গতিরোধ করে তল্লাশি, মোবাইল ছিনতাই, মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং নারী পর্যটকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ভয়ে অনেক পর্যটক মুখ না খুললেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ভুক্তভোগী পর্যটক সুমন তার বক্তব্যে বলেন, “ফুরমোন পাহাড় থেকে পুরো রাঙামাটি শহর এক নজরে দেখা যায়। এত সুন্দর ও সম্ভাবনাময় জায়গায় দিনের আলোয় অস্ত্রধারীদের অবাধ বিচরণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।”

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং উদীয়মান পর্যটন শিল্পকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্রকে সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য নিয়মিত ও বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তারা।

পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাত চরম সংকটে পড়বে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হবে।

তারা বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পাহাড়ের অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Tag :

রাঙামাটির গর্ব, জাতীয় মঞ্চে একের পর এক সাফল্যের নাম তাজিম রহমান

রাঙামাটির ফুরমোন পাহাড়ে পর্যটক হেনস্থার প্রতিবাদে পিসিসিপির বিক্ষোভ

Update Time : ০১:৩৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

রাঙামাটির ফুরমোন পাহাড়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে পর্যটকদের মোবাইল ছিনতাই, হেনস্থা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। এ ঘটনার প্রতিবাদে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার  (২ জানুয়ারি) রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জুমার নামাজ শেষে কাঠালতলী মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরূপা চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন। এতে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য, পর্যটন বিষয়ক আহ্বায়ক মো. হাবীব আজম, পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোলায়মান, সহ-সভাপতি কাজী জালোয়া, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. নূর হোসেন, রাঙামাটি অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, রাঙামাটি ফার্নিচার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শুক্কুর, হিল সার্ভিস রাঙামাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাসুদ রানা, অ্যাসোসিয়েশন অব হিল ট্যুরিস্ট গাইডস রাঙামাটির সভাপতি সোহেল রানা, রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নেতা রাকিব, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিয়ান রিয়াজ, মো. রনি, পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবুসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, “মেঘ ছোঁয়ার নেশায় ফুরমোন পাহাড়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ইউপিডিএফের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হাতে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণ ও শারীরিক নিগ্রহের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে রাঙামাটির সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।”

তারা অভিযোগ করেন, ফুরমোন পাহাড়কে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। পাহাড়ে ঘুরতে আসা সাধারণ পর্যটকদের গতিরোধ করে তল্লাশি, মোবাইল ছিনতাই, মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং নারী পর্যটকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ভয়ে অনেক পর্যটক মুখ না খুললেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ভুক্তভোগী পর্যটক সুমন তার বক্তব্যে বলেন, “ফুরমোন পাহাড় থেকে পুরো রাঙামাটি শহর এক নজরে দেখা যায়। এত সুন্দর ও সম্ভাবনাময় জায়গায় দিনের আলোয় অস্ত্রধারীদের অবাধ বিচরণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।”

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং উদীয়মান পর্যটন শিল্পকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্রকে সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য নিয়মিত ও বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তারা।

পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাত চরম সংকটে পড়বে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হবে।

তারা বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পাহাড়ের অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।