১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

কোনো দলেই নয়—ছাত্রলীগ ছাড়ার পর স্পষ্ট বার্তা জাকিরের

রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জাকির ছাত্ররাজনীতি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

পদত্যাগ-পরবর্তী এক বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে স্বাভাবিক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নেই। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির চর্চার কারণেই তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়াকেই তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল বলে মনে করেন।

জাকির বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি কখনো ভিন্নমতের কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেননি কিংবা তাদের কোনো ক্ষতি করেননি। বরং সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। ন্যায় ও অন্যায়ের প্রশ্নে তিনি সবসময় স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন বলেও দাবি করেন।

২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন এবং তাদের যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে আহত ও ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অনেক শিক্ষার্থীকে নিজ বাসস্থানে আশ্রয় দিয়ে নিরাপদ থাকার ব্যবস্থাও করেছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে তিনি সব শিক্ষার্থীকে বন্ধু ও ছোট ভাই হিসেবে দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় সে সময় তিনি পদত্যাগ করতে পারেননি। বিভিন্ন মহল থেকে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, তখন পদত্যাগ করলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তিনি গত বছরের ২৫ মে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর মাধ্যমে তিনি জেলা ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ান।

জাকির বলেন, পদত্যাগের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তাকে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি সসম্মানের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ভবিষ্যতে তিনি আর কোনো জাতীয় বা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবেন না।

বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, তার কথাবার্তা বা আচরণে কেউ কখনো কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার করেন যে বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকবে না।

Tag :

রাঙামাটির গর্ব, জাতীয় মঞ্চে একের পর এক সাফল্যের নাম তাজিম রহমান

কোনো দলেই নয়—ছাত্রলীগ ছাড়ার পর স্পষ্ট বার্তা জাকিরের

Update Time : ০২:২১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জাকির ছাত্ররাজনীতি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

পদত্যাগ-পরবর্তী এক বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে স্বাভাবিক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নেই। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির চর্চার কারণেই তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়াকেই তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল বলে মনে করেন।

জাকির বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি কখনো ভিন্নমতের কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেননি কিংবা তাদের কোনো ক্ষতি করেননি। বরং সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। ন্যায় ও অন্যায়ের প্রশ্নে তিনি সবসময় স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন বলেও দাবি করেন।

২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন এবং তাদের যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে আহত ও ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অনেক শিক্ষার্থীকে নিজ বাসস্থানে আশ্রয় দিয়ে নিরাপদ থাকার ব্যবস্থাও করেছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে তিনি সব শিক্ষার্থীকে বন্ধু ও ছোট ভাই হিসেবে দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় সে সময় তিনি পদত্যাগ করতে পারেননি। বিভিন্ন মহল থেকে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, তখন পদত্যাগ করলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তিনি গত বছরের ২৫ মে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর মাধ্যমে তিনি জেলা ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ান।

জাকির বলেন, পদত্যাগের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তাকে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি সসম্মানের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ভবিষ্যতে তিনি আর কোনো জাতীয় বা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবেন না।

বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, তার কথাবার্তা বা আচরণে কেউ কখনো কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার করেন যে বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকবে না।